তাহিরপুরের শুল্ক বন্দরের সড়ক-সেতু নির্মাণে উদ্যোগ ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি
- আপলোড সময় : ০৮-০৯-২০২৬ ০৫:২৫:০৪ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৮-০৯-২০২৬ ০৫:২৫:০৪ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ::
তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ তিন শুল্ক বন্দর- বড়ছড়া, বাগলী ও চারাগাঁও। এসব বন্দর থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পেলেও দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নবঞ্চিত রয়েছে। বিশেষ করে বাগলী ও চারাগাঁও শুল্ক স্টেশনের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এমন পরিস্থিতিতে বাগলী ও চারাগাঁও শুল্ক স্টেশনের সড়ক পাকা ও প্রয়োজনীয় সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর মধ্যে।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের উদ্যোগ ও উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এসব সড়ক ও সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সোমবার দুপুরে বাগলী ও চারাগাঁও শুল্ক স্টেশনের সড়কগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম। এ সময় তাঁর সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল, বিএনপি নেতা ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম আখঞ্জী, বালিজুরি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. সাখাওয়াত হোসেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোস্তাক আহমদসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সচেতনমহলের মতে, সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ এসব শুল্ক স্টেশনের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে। একই সঙ্গে পর্যটকদের যাতায়াত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত কাজ বাস্তবায়নে সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা জামিল আহমেদ ও ফারুক মিয়াসহ অনেকে জানান, বাগলী ও চারাগাঁও শুল্ক স্টেশনের সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সড়কগুলোর বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ থাকায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রায়ই দুর্ঘটনাসহ নানা দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে পথচারী ও স্থানীয়দের। সড়কগুলো পাকা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্থানে সেতু নির্মাণ করা হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন তারা।
ব্যবসায়ীরা জানান, বাগলী ও চারাগাঁও শুল্ক স্টেশনের সড়ক ও সেতুর উন্নয়ন হলে ভারত থেকে আমদানি করা কয়লা ও চুনাপাথর পরিবহন সহজ হবে। এতে পরিবহন ব্যয় কমার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হবে। বর্তমানে সড়কগুলোর বেহাল দশার কারণে প্রায়ই পণ্যবাহী যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। এতে শ্রমিক ও পথচারীদের হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। তাই দ্রুত সড়ক ও সেতু নির্মাণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল বলেন, দীর্ঘদিন উন্নয়নবঞ্চিত সীমান্ত এলাকার মানুষ ও শুল্ক বন্দরগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন বিষয়ে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল আন্তরিক। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে শুল্ক বন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে। ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীকে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে সড়কসহ বন্দরগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সে কারণেই আজ বন্দর ও সড়কগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, বাগলী ও চারাগাঁও শুল্ক স্টেশনের সড়কগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের বেহাল অবস্থা, যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ এবং প্রয়োজনীয় সেতু নির্মাণের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ